২২শে মে ২০২০ শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধের দিন। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরের প্রায় (সবও হতে পারে) সকল ব্যাংক এর এডি শাখাসমূহের নুন্যতম রপ্তানি বিভাগ, ঋন বিভাগ, জেনারেল ব্যংকিং এবং ক্যাশ বিভাগ এবং নন-এডি শাখার জেনারেল ব্যংকিং এবং ক্যাশ বিভাগ এর নির্বাচিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে অফিস করতে হচ্ছে। যা দুপুর ১.০০টা মিনিট বিরাজিত থাকার কথা। এর মধ্যে লেনদেন এর অনুমোদিত সময় সীমা হচ্ছে সকাল ১০.০০টা হতে বেলা ১২.০০টা।

একইভাবে শনিবারও সীমিত ব্যাংকিং লেনদেন হলো এবং তা নামাজের বিরতিসহ দুপুর ২.৩০টা পর্যন্ত। এছাড়া নামাজের বিরতিসহ দুপুর ৩.৩০টা পর্যন্ত অফিস সময়সীমা নির্ধারন করা হয়েছিল। একই সাথে ব্যাংক সমূহের প্রধান কার্যালয়ের আইটি শাখার কতিপয় কর্মকর্তাদেরও আসতে হয়েছে। এই আদেশ সম্পর্কিত সার্কুলার নং-১৭ ইস্যু করেন বাংলাদেশ ব্যাংক এর অফসাইট সুপারভিশন বিভাগ ১৯শে মে ২০২০ ইং তারিখে।

সার্কুলার এর প্রতিপাদ্য এই “আসন্ন পবিত্র ঈদ উল ফিতরের পুর্বে তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক/ কর্মচারী/ কর্মকর্তা বেতন, বোনাস ও ভাতাদি পরিশোধের সুবিধার্থে এবং রপ্তানী বানিজ্য সচল রাখার স্বার্থে অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি রপ্তানী বিল ক্রয়ের মাধ্যমে নগদ অর্থ প্রদানের সুবিধার্থে ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়নগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত পোশাকশিল্প এলাকার তফসিলী ব্যাংক, পোশাক শিল্প সম্পর্কিত শাখা সমুহ এবং প্রধান কার্য্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রয়োজনীয় লোকবল সহযোগে খোলা থাকবে। তবে যারা আসবেন তারা এজন্য কিছু ভাতা প্রাপ্য হবেন।

আসলে এইসব নতুন কোন ঘটনা নয়। প্রতি বৎসর এমনি হয়ে আসছে। তারিখ ও সুত্র নাম্বার ছাড়া সার্কুলার এর ভাষা পরিবর্তনেরও প্রয়োজন নেই। এবার করোনাজনিত কারণে গ্রামের বাড়ি যাবার তাগাদা নেই নইলে গত ২১শে মে ২০২০ ইং বৃহস্পতিবার হতে সাধারণ ও নির্বাহী আদেশে ২৬শে মে পর্যন্ত টানা ৬ দিনের বন্ধ। নইলে বাড়ি যেতে চেয়ে কারো কারো ছুটির পরিকল্পনার সংশোধন করে নিতে হতো। এর বাইরে আছে টিকেট প্রাপ্তির জট।

অথচ দেখবেন এরকম যত বন্ধই আসুক বাংলাদেশ ব্যাংক কি নিজেদের অফিস খোলা রেখেছে। তাদের ছুটি নিশ্চিতের জন্য ক্লিয়ারিং সেটেলমেন্ট বন্ধ রাখা হয়। তারা গেছেন নিজেদের মত করে ছুটিতে। আর গার্মেন্টস মালিকগন চলে গেছেন ইউরোপ, আমেরিকার বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে। তবে এবার অসহায় যেতে পারছেন না। করোনাই বাধা। আর ব্যাংক সমুহের প্রধান কার্যালয় উচ্চপদস্থদের আসতে হয়না বিধায় নিজস্ব সার্কুলার জারী করেই ওনারা ভারমুক্ত হন। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থা সমুহের সংগে বিকল্প কি হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করার মানসিকতাও পোষণ করেন না।

আমি পেশায় একজন ব্যাংকার ছিলাম, এখন অবসরে। কর্মরত সময়ে মতিঝিল কর্মস্থল হওয়ার সুবাদে সকালে অফিসে যেতে যেতে দিনের পত্রিকা পড়ে ফেলতাম। নীচের সমুদয় বক্তব্য ২০১৫ সালের। তবে এই অবস্থার উত্তরন কিন্তু ঘটেনি। বরং আমরা একই জায়গায় আটকে আছি। কিন্তু এখনকার জন্যও প্রাসঙ্গিক। তাই আপনাদের বরাবরে আমার আগের লেখনীই উপস্থাপন করছি করণীয় নির্ধারণে জনমত তৈরী হওয়া জরুরি এই বিবেচনায়।

এই রকম ভাবে একদিন বিগত ২৩শে ডিসেম্বর ২০১৫ ইং তারিখে পত্রিকা পড়তে পড়তে ভেতরের পাতার একটা খবরে চোখ আটকে গেলো। পত্রিকাটির নিজস্ব প্রতিবেদকের করা খবর পড়ে ফিরে গেলাম ছোট বেলায়, মনে পড়লো ক্লাস থ্রিতে পড়া গরু রচনার কথা। ইংরেজিতেও দি কাউ নামে রচনা পড়েছি। দুই ভাষ্যেই গরু নিয়ে একটি লাইন রয়েছে যা হল “গরু একটি নিরীহ প্রাণী” আমার তখনি মনে হল এই প্রতিপাদ্যটি সম্পুর্ন ভুল। আসলে গরু নয় সত্যিকার নিরীহ প্রাণী হল ব্যাংকার। গরু তো তবু মাঝে মধ্যে লাথি মারে কিন্তু ব্যাংকার নৈব নৈব চ।

এই মুহুর্তে সবাই ভাবছেন কি এমন খবর যা পড়ে আমার মনে হলো গরু নয় নিরীহ প্রাণী হল ব্যাংকার। সবার আগ্রহকে সম্মান জানাতে খবরটি নিম্নে তুলে হুবহু ধরা হলঃ-
“ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক সমাপনী হিসাবের সুবিধার্থে ৩১শে ডিসেম্বর ২০১৫ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। তার পরিবর্তে ১ জানুয়ারি ২০১৬ শুক্রবার এসব প্রতিষ্ঠানের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।” বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছুটি পরিবর্তনের এমন সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। এ ছাড়া আজ বৃহস্পতিবার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পূর্ব ঘোষিত সরকারি ছুটিও বাতিল করা হয়। এদিন ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সরকারি ছুটি পুর্ব ঘোষণা ছিল। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে মিলাদুন্নবীর তারিখ পরিবর্তিত হওয়ায় এ দিনের ছুটি বাতিল হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সচরাচর বার্ষিক সমাপনী উপলক্ষে ৩১শে ডিসেম্বর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। কিন্তু ৩০শে ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে দেশজুড়ে অনুষ্ঠেয় পৌর নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকায় ব্যাংকসমুহ বন্ধ থাকবে বিধায় দেশের সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ছুটির এই পরিবর্তন করা হয়েছে।

এদিকে ব্যাংক ছুটির সংগে মিল রেখে ৩১শে ডিসেম্বর দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ারবাজারের লেনদেনও চালু রাখবে। তার পরিবর্তে ১লা জানুয়ারি ২০১৬ শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ থাকবে বলে সংস্থা দুটি জানিয়েছে।” এখানে প্রকাশিত খবরের নিরেপক্ষ বিশ্লেষণ পুর্বক এর প্রেক্ষাপট ও নিরীহ প্রাণীর বিদ্যমান ধারণা পরিবর্তনের একটি প্রস্তাবনা সকলের সদয় অবগতি ও মতামত প্রদানের নিমিত্তে উপস্থাপন করা হলো। ব্যাংকসমুহ মালিক এবং প্রধান নির্বাহীদের ফোরামে আলোচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক এর সাথে এনিয়ে বসতে পারেন।

খবরটি যদি পড়েন শুরুতেই আপনার মনে হবে ব্যাংকার এর অসুবিধাকে আমলে নিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক সমাপনী হিসাবের সুবিধার্থে ব্যাংক খোলা রাখার এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে বার্ষিক ক্যালেন্ডার এ যে ২ (দুই) দিন ব্যাংক হলিডে (১লা জুলাই ও ৩১ শে ডিসেম্বর) হিসাবে আবহমান কাল হতে প্রদর্শিত হয়ে আসছে তা আসলে কোন ভাবেই ব্যাংকারদের জন্য ছুটির দিন নয়। ঐ দিন ২টি তে বাণিজ্যিক ব্যাংকে কর্মরত সকল ব্যাংকারগন আসলে অফিস করে থাকেন। বরং বলা যায় ওই ছুটি আসলে ব্যাংক এর গ্রাহকগনের জ্ঞ্যাতার্থে প্রচারিত ছুটি যাতে লেনদেন বন্ধ থাকে বিধায় গ্রাহকগন ব্যাংকিং কার্যক্রমের জন্য গিয়ে যাতে বিব্রত না হন।

বরং বলা যায় ওই ছুটি আসলে ব্যাংক এর গ্রাহকগনের জ্ঞ্যাতার্থে প্রচারিত ছুটি যাতে লেনদেন বন্ধ থাকে বিধায় গ্রাহকগন ব্যাংকিং কার্যক্রমের জন্য গিরে যাতে বিব্রত না হন। এই ছুটি নিয়ে বিভ্রান্তি নতুন কিছু নয়। যারা ব্যাংক এ চাকুরি করেন না তাঁরা মনে করে থাকেন ঐ দিন সমূহে ব্যাংকার এর জন্য ব্যাংক বন্ধ থাকে অর্থাৎ ব্যাংকারদের সম্মানে এই দিন দুটি ছুটি হিসাবে স্বীকৃত ব্যাংকে যোগদানের পুর্বে আমারও এমন মনে হয়েছিল। প্রকৃত পক্ষে তা নয় বরং ৩০শে জুন ও ৩০শে ডিসেম্বর তারিখে যথাক্রমে অর্ধ-বার্ষিক ও বার্ষিক হিসাব শেষে প্রাথমিক লাভ-লোকসান হিসাব শেষ করে। ব্যাংক হলিডের দিন সমুহে সকল লেজারের সকল হিসাবের সমাপনী জের তথা ক্লোজিং ব্যালেন্স নতুন পাতায় স্থানান্তর করা হয়।

মূলত ব্যাংকিং কার্যক্রম ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে রক্ষিত ছিল বিধায় মন সংযোগ সহযোগে দায়িত্বপুর্ন এই কাজ করার সুবিধার্থে লেনদেন বন্ধ থাকতো। তবে বর্তমানে কম্পিউটার প্রোগ্রামের মাধ্যমে লেনদেন রক্ষিত হয় বিধায় এখন না গেলেও চলতো। এই বন্ধ বলতে ব্যাংকারদের জন্য পরিপুর্ন বন্ধ নয় বিধায় তবে প্রথা হিসাবে সকলে যান এবং রিলাক্সড মুডে বিবিধ কাজ করেন। অবশ্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরকারী ব্যাংক এর সকল শাখা এখনো কম্পিউটারাইজড নয়। উচিত হবে ১০০% ব্যাংক শাখা কম্পিউটারাইজড হয়ে গেলেও ব্যাংকারদের কাজকে সম্মান জানিয়ে আবহমান কাল হতে চলে আসা এই দিন ২ (দুই) ছুটি ঘোষণা করা।

অত্র নিবন্ধের শুরুতে উল্লেখিত নিউজ হতে আপনারা লক্ষ্য করে থাকবেন চলতি বৎসর (এখানে ২০১৫ সাল) ৩১শে ডিসেম্বর তারিখে লেনদেন চালু রেখে ১লা জানুয়ারি ব্যাংক হলিডে ঘোষণা করা হয়েছে। তাতেও অসুবিধা বা আপত্তি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু শুক্রবার হিসাবে সাধারন ছুটির দিন থাকায় ছুটির দিনেও সকলকে অফিস করতে হবে বিধায় ব্যাংকারদের টানা কাজ করে যেতে হবে। বিশেষ করে বৈদেশিক বাণিজ্যের সুবিধা রয়েছে এমন শাখায় কর্মরত আবশ্যিক বিবেচিত কর্মচারি–কর্মকর্তাগন টানা ১৩ দিন কাজ করবেন।

খবরে পৌর নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকায় ৩০শে ডিসেম্বর ব্যাংক বন্ধ থাকবে বিধায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ছুটির পরিবর্তন করা হয়েছে বলাটা বাস্তব ভিত্তিক নয়। বরং বলা উচিত ছিলো ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিশেষ দায়িত্ব পালনের দিন পরিবর্তন করা হয়েছে মাত্র। যার ব্যাখ্যা ইতিপুর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন আমরা দেখবো এ রকম অবিমৃষ্যকারী সিদ্ধান্ত ইতিপুর্বেও নেয়া হয়েছিল কিনা? এরকম অনাকাঙ্খিত সিদ্ধান্ত কি এড়ানো যেতো না? এ ধরণের সিদ্ধান্ত গ্রহন কেন নেয়া হল? গৃহীত সিদ্ধান্তের ফলাফল কি? আমি নিকট অতীতে এরকম আরও দুটি ঘটনার উল্লেখ করতে পারি। যা নিম্নরূপঃ-

১ম উদাহারণ
২০১৪ সালের ৪ঠা অক্টোবর শনিবার গার্মেন্টেস শ্রমিকদের ঈদের বেতন ও বোনাস প্রদানে গার্মেন্টস শিল্প সন্নিহিত এলাকার সকল শাখাসহ বৈদেশিক বাণিজ্যের সুবিধা রয়েছে এমন শাখা সমূহ জনস্বার্থে খোলা রাখার জন্য নির্বাহী আদেশ জারি করে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এই দিনটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গাপুজার কারণে পুর্ব নির্ধারিত সরকারি ছুটির দিন।

এখানে উল্লেখ্য যে বর্তমানে কোন সরকারি অফিস ও আদালত শনিবার খোলা থাকেনা। আর বৈদেশিক বাণিজ্য সুবিধা নেই এমন ব্যাংক শাখা সমূহও বন্ধ থাকে। সবচেয়ে বড় কথা ৫ই অক্টোবর ২০১৪ রবিবার থেকে ৭ই অক্টোবর ২০১৪ মঙ্গলবার পর্যন্ত কোরবানি ঈদের বন্ধ থাকার পুর্ব ঘোষিত ছুটি ছিলো।

এই অবস্থায় কর্মজীবি মানুষ যারা কর্মস্থল ত্যাগ করে গ্রামে বা দুরের শহরে স্ব-পরিবারে বা একাকি যাবেন তারা ২রা অক্টোবর ২০১৪ বৃহস্পতিবার ও তার পরদিন শুক্রবার হতে যাত্রা আরম্ভের ব্যবস্থাদি নিয়ে থাকবেন। ছুটির দিনে ব্যাংক শাখা খোলা রাখার এই সিদ্ধান্তের কারণে উল্লেখযোগ্য ব্যাংক কর্মকর্তাকে বাড়ি যাওয়ার বাতিল করতে হয়েছে বা পরিবারের সদস্যদের অন্যদের হাওলা করে নিজে দুর্ভোগকে সামনে নিয়ে ৪ঠা অক্টোবর ২০১৪ শনিবার লেনদেন শেষে বা পরদিন যেতে হয়েছে।

ঈদের সময় টিকেট পাওয়া যে কত বড় ঝক্কির ব্যাপার তা সকলেই জানেন। আরেকটা বিষয় মনে রাখতে হবে রোজার ঈদে অনেকে শহর ছেড়ে যান না কিন্তু কোরবানি ঈদে যান। ফলে বহির্গামি জনস্রোত অনেক বেশি হয়। সুতরাং টিকেট পাওয়ার ঝক্কি-ঝামেলা আরো বেশি হতে বাধ্য। এই সিদ্ধান্ত যে কতটা অবিবেচনা প্রসূত তা আমি যে শাখায় কাজ করি সেখানকার বাস্তব অবস্থা হতে আপনারা বুঝতে পারবেন।

কারন ওই দিন এমন কোন চেক উপস্থাপিত হয়নি যা গার্মেন্টস প্রতিণ্ঠান বা গার্মেন্টস মালিক বা গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী কর্তৃক ইস্যুকৃত। আমার পরিচিত অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংক এর শাখা পর্যায়ে কর্মরত পরিচিত জনদের নিকট হতে তাদের শাখার যে তথ্য জেনেছি তাও প্রায় একই ধরনের।

মূলতঃ যাদের জন্য এ সিদ্ধান্ত তাঁরা কিন্তু সেবা গ্রহনে উম্মুখ নয়। বরং তাঁরা উম্মুখ বাড়ি যেতে। গার্মেন্টসসমূহ আগেই বেতন ভাতাদি দিয়ে দেয় কারন এখন কমপ্লায়েন্সে একটি বড় ইস্যু। যেহেতু ২রা অক্টোবর ২০১৪ শুক্রবার হতে তাদের ছুটি শুরু এবং সামনে ঈদ, সুতরাং ১লা অক্টোবর ২০১৪ বৃহস্পতিবারের মধ্যে গার্মেন্টস মালিকগণকে বেতন–বোনাস দিয়ে দিতে হয়েছে। বরং না দিলেই বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হত। বিরূপ পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য গৃহীত ব্যবস্থা আসলে একটা লোক দেখানো অফিস আদেশ। সরকারের নিকট বুঝানো যে সরকারের সুবিধা–অসুবিধার বিষয়ে আদেশ দাতা বা তাদের উপদেষ্টারা অনেক বেশি সচেতন।

সত্যি এই যদি প্রকৃত আন্তরিকতা থাকতো তাহলে আর কয়েকটা লাইন জুড়ে দিয়ে এই অফিস জারি করা যেত এবং তা হলো “গার্মেন্টস ও সংশ্লিষ্ট কারাখানার হিসাব রয়েছে এমন ব্যাংক শাখাসমূহ তাদের মালিকদের নিকট হতে বেতন–ভাতা প্রদান সম্পর্কিত লিখিত তথ্যাদি নিয়ে প্রয়োজন দেখা না দিলে শাখা বন্ধ রাখতে পারবেন। অন্যথায় শাখা খোলা থাকবে” এখানে লিখিত বক্তব্য না নিলেও চলে, কারণ শাখা কর্তৃপক্ষ নিজ শাখার অন্তর্ভুক্ত গার্মেন্টস ও সংশ্লিষ্ট কারাখানার বেতন–ভাতা পরিশোধের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে পুর্ব হতে ওয়াকিবহাল থেকে থাকেন এবং এটাই স্বাভাবিক। আসুন আমরা এ ধরনের, বাস্তবতা বিবর্জিত সিদ্ধান্তকে মনে প্রানে ধিক্কার জানাই।

২য় উদাহারণ
নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রক হিসাবে ২০১৫ সালের মার্চ মাসে অফিস সময় এর কোন উল্লেখ না করেই (নির্বাচন কমিশনের আদেশ এর প্রতিফলন মাত্র) শুক্র ও শনিবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশান এর আওতাভুক্ত এলাকায় সকল ব্যাংক শাখা খোলা রাখে। কারণ হিসাবে নির্বাচন ইচ্ছুক সম্ভাব্য প্রার্থীগন যাতে মনোনয়ন পত্রের সাথে আবেদন পত্র ফি ও জামানত বাবদ প্রদানযোগ্য সমুদয় টাকা পে–ওর্ডার বা ট্রেজারি চালান মারফত জমা দিতে পারেন। দেশের বৃহত্তর সার্থে ও গনতন্ত্রের প্রয়োজনে অধিক কাজ করতে ব্যাংকার সহ আর কারো আপত্তি থাকার কথা নয়।

কিন্তু প্রশ্ন হলোঃ-
১) নির্বাচনের সময়সূচী নির্ধারণের খতিয়ে দেখা হলোনা কেন যে বৃহস্পতিবার ২৬শে মার্চ ২০১৫ সরকারি ছুটি এবং পরবর্তী শুক্র ও শনিবার ব্যাংকসমূহ বন্ধ থাকায় প্রার্থীদের অসুবিধা হতে পারে? এখনে প্রকাশ থাকে যে সরকারী ছুটির তালিকা বছরের শুরুতেই সকলের জ্ঞাতার্থে গেজেট মারফত জারি করা হয়।

২) ২৬শে মার্চ তা যে বছরের জন্যই হউক বন্ধ আছে বা থাকবে কিনা, তা জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নেয়া শেষে বি.সি.এস পরীক্ষা দেয়ার প্রয়োজন পড়েনা? রক্তে কেনা স্বাধীনতার এই দিনটিতে সরকারী ছুটি থাকবে এটা স্বাভাবিক বাস্তবতা মাত্র, এর জন্য পড়ালেখারও দরকার নেই।

৩) সাধারণ ভাবে যারা ২৬শে মার্চ ২০১৫ কি বার বা বন্ধ আছে কিনা জানেন না, তারা তা জানতে গেজেটেড ছুটির তালিকার সহায়তা নিতে পারতেন। যে কোন কার্যসূচী গ্রহন করার সময় বিধিবদ্ধ ছুটির তালিকা চোখের সামনে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া একটি যৌক্তিক আচরণ মাত্র। আমার বিবেচনায় সকল বিচারে মনোনয়ন পত্র দাখিলের সর্বশেষ তারিখ নির্ধারণ করা উচিৎ ছিল ৩০শে মার্চ ২০১৫ সোমবার। এর ফলে ছুটির দিনে ব্যাংক খোলা রাখার মত অবাস্তব ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হতো না। নিজেদের অদক্ষতার জন্য সরকারকে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলা কাম্য নয়।

৪) স্বাধীনতা দিবস এর কথা ভুলে যাওয়াটা অন্য কিছুর ইংগিতবাহী। ব্যাংক শাখাসমুহ খোলা রাখার এই ধরনের অনাহূত আদেশ দান পূর্বক জনসাধারন এর মাঝে সরকারের প্রশাসনিক দক্ষতাকে নেতিবাচক ভাবে উপস্থাপন করে মাত্র। তদুপুরি ব্যাংক কর্মকর্তা–কর্মচারীদের মধ্যে সরকার তথা সরকারী দলের প্রতি ঋণাত্মক ধারণা সৃষ্টি কারা করতে চায় তা খয়িয়ে দেখা প্রয়োজন? ঘরের শত্রু সচরাচর বিভীষণই হয় যারা নিজেকে কাছের লোক হিসাবে দেখাতে চায়।

৫) শুক্রবার ব্যাংক খোলা রাখা বাস্তবতার নিরিখেও প্রয়োজন ছিলোনা। কারন এইঃ-
ক) অনেক ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক সমঝোতামূলক বিষয় জড়িত থাকায় মনোনয়নপত্র দাখিল কার্যক্রম সচরাচর শেষ কর্ম দিবসেই ঘটে থাকে।
খ) ২৬শে মার্চ ২০১৫ বৃহস্পতিবার ও ২৭শে মার্চ ২০১৫ শুক্রবার ছুটি থাকলেও ২৮শে মার্চ ২০১৫ শনিবার অধিকাংশ ব্যাংকের এডি শাখাসমূহ খোলা থাকে। ফলে কেবলমাত্র ঢাকা সিটি কর্পোরেশান এলাকায় দেশে বিদ্যমান ৫০টিরও বেশি ব্যাংক এর কম-বেশি ১৫০ এর মত শাখা স্বাভাবিকভাবেই খোলা থাকতো।
গ) অন্যদিকে ২৮শে মার্চ ২০১৫ রবিবার কেবলমাত্র ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় দেশে বিদ্যমান ৫০টিরও বেশি ব্যাংক এর কম-বেশি ১,০০০ এর মত শাখা আবশ্যিকভাবে খোলা থাকতো। উপরোক্ত সকল বিবেচনায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের কোন ধরনের অসুবিধা হবার আশংকা থাকতেই পারেনা।

অবশ্য সবকিছু স্বাভাবিক গতিতে হলে নিজেকে সরকারি দলের প্রতি অনুরক্ততা দেখানোর সুযোগ থাকে কি? কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সরকারী দল যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা কে বুঝবে বা কাকে বুঝাবে?

এইবার আমরা বর্তমান আদেশ প্রদান কতটা প্রয়োজন ছিল তাও বিশ্লেষণ করে দেখি। দেখি এই ধরনের আদেশের সারবত্তা। মূলত নির্বাচন কমিশন ৩০শে ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে ২৩৪টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়ায় এই অফিস আদেশের জারির প্রয়োজনীয়তা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তপক্ষকে অনুভব করতে হয়েছে।

কিন্তু একটি ভুল সিদ্ধান্ত কি আরেকটি ভুল সিদ্ধান্তকে দিয়ে চাপা দিতে পারে বা দেয়। আদেশটি হলোঃ-
“পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষে ৩০শে ডিসেম্বর ২০১৫ সারা দেশে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাংক/ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শাখাসমূহ বন্ধ থাকে বিধায় ২০১৫ সনের বার্ষিক হিসাব ক্লোজিং এর সুবিধার্থে আগামী ৩১শে ডিসেম্বর ২০১৫ বৃহস্পতিবার সকল তফসিলি ব্যাংক/ আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ৩১শে ডিসেম্বর ২০১৫ এর পরিবর্তে ১লা জানুয়ারি ২০১৬ শুক্রবার ব্যাংক হলিডে ঘোষণা করা হলো”।

এই হলিডে কেন হলিডে নয় তা শুরুতেই বিশ্লেষণ করা হয়েছে তাই এখানে আর বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হলো না। এখন দেখা যাক পৌর নির্বাচন এর তারিখ ৩০শে ডিসেম্বর তারিখে নির্ধারন করা কতটুকু যৌক্তিক। প্রকৃত প্রস্তাবে এটি একটি তারিখ মাত্র। এমন নয় যে এই তারিখ ছাড়া ভিন্ন কোন তারিখে নির্বাচন সম্পন্ন করা যাবে না। ডিসেম্বর ২০১৫ এর মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকলে ২৯শে ডিসেম্বর ২০১৫ কেও নির্বাচনের তারিখ হিসাবে নির্ধারন করা যেত। আর বাধ্যবাধকতা না থাকলে ২রা জানুয়ারি ২০১৬ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারন করাটা অস্বাভাবিক কিছু হতো না।

কারন কতিপয় ব্যতিক্রম ছাড়া যুগযুগ ধরে ৩০শে ডিসেম্বর ব্যাংক এর বার্ষিক হিসাব এর ক্লোজিং হয়ে আসছে। উদ্ভূত উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২৯শে ডিসেম্বর ২০১৫ কে বার্ষিক হিসাব ক্লোজিং এর জন্য নির্ধারন করে সংশোধিত ঘোষণা দিলে সকল বিবেচনায় তা সংখ্যাগরিষ্ঠের জন্য উপকারি হতো।

ফলে ভুল বিবেচনায় নির্ধারিত ৩০শে ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখেই নির্বাচন অনুস্থিত হতো। ফলে ৩১শে ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে ব্যাংক হলিডে বহাল থাকতে কোন বাঁধা থাকতো না এবং কারও সংক্ষুব্ধ হবার প্রয়োজন পড়তো না। আবার বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ভুল শুধরাতে গিয়ে বরং আরেকটি ভুলের যে জন্ম দিলেন তাও ঘটতো না। আসলে শিক্ষার অপপ্রয়োগ, নিয়ন্ত্রক/ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে জড়িত থাকা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের নাক উঁচু ভাব, সাধারণ জনগনের অসুবিধাকে অসুবিধা মনে না করার বাতিক এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহনে ভুমিকা রেখেছে বলে সকলের মত আমিও মনে করি।

আগেও উল্লেখ করেছি সরকার নির্ধারিত ছুটির তালিকা ও ক্যালেন্ডার সামনে রেখে সিদ্ধান্ত না নেয়ার প্রবণতা, সাধারণ জনগনের লাভ ক্ষতি তথা সরকারের লাভ–ক্ষতি কে আমলে না নেয়াও এ ধরনের উদ্ভট সিদ্ধান্ত নেয়ার ভিত্তি হিসাবে কাজ করেছে। একটি ভুল আরেকটি ভুলের জন্ম দেয়, এই আপ্ত বাক্যকে পুনঃ প্রমান পুর্বক বাজে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে কেউ কেউ সরকার বিরোধী মনোভাব ছড়িয়ে দিতে সচেষ্ট রয়েছে এমন প্রতীয়মান হওয়াটা ভুল বলা যাবে না। নইলে বারবার এমনটা ঘটবে কেন?

আমার মনে হয় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী গনের মধ্যে এমন ব্যাক্তি থাকতে পারেন যারা প্রজেক্টের পয়সায় অভিজ্ঞতা অর্জনের নামে স্ব-পরিবারে বা বান্ধবীসহ প্রমোদ ভ্রমন করতে পছন্দ করেন। আর অর্জিত অভিজ্ঞতা প্রসূত প্রজেক্ট এর ভুল শুধরাতে আরেকটি প্রজেক্ট গ্রহন করতে হয়। এতে আসলে ক্ষতিগ্রস্থ হয় সরকার ও জনগন। এই ধরনের ভুল শুধরানো একটি বহুবার শুনা একটি প্রচলিত গল্প আবার বলি, যা হলো-

“এক ইঞ্জিনিয়ার দায়িত্ব নিয়ে দেখেন যে ৪-৫ বৎসর আগে তাদের অফিস আঙিনায় একটি পুকুর খননের জন্য ২৫.০০ লক্ষ বিল প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কোন পুকুর না থাকায় যা বুঝার তা তিনি বুঝে ফেললেন। এইবার তিনি অফিস আঙিনার পুকুরের পানিতে সৃষ্ট ঢেউ এর ফলে পাশের শহরের ব্যস্ত রাস্তা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার হাত হতে রক্ষাকল্পে ৩০.০০ লক্ষ টাকার বাজেট পাশ করিয়ে নিয়মের আওতায় বিল পরিশোধ করেন। বাস্তবে কাজ কি হলো বুঝা গেলো না কিন্তু সরকার তথা জনগনের ক্ষতি হলো ৫৫.০০ লক্ষ টাকা।

আবারও বলি ২৯শে ডিসেম্বর বা ২রা জানুয়ারি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারন অথবা বিকল্প হিসাবে ২৯শে ডিসেম্বর ব্যাংক ক্লোজিং এর তারিখ এগিয়ে নিয়ে ২৯শে ডিসেম্বর নির্ধারন না করা যে ভুল হয়েছে তা বুঝতে বা জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নেয়া শেষে বি.সি.এস পরীক্ষা দেয়া বা ডক্টরেট ডিগ্রীর প্রয়োজন পড়েনা? যে কারণে প্রকৃত প্রস্তাবে বারবার একই ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত নেয়ার পেছনে আরেকটি কারণও রয়েছে।

তা হলো ক্ষমতা জাহির করা। এর প্রকাশ ঘটে জনগণকে বোকা ভেবে খেয়াল খুশি মত সিদ্ধান্ত গ্রহনের মানসিকতায় অনুপযোগী ও অযৌক্তিক অফিস আদেশ দান এর মধ্য দিয়ে। গল্প যখন বললাম তখন ক্ষমতা নিয়েও আরেকটা গল্প শুনাই তা হলোঃ-
এক নববিবাহিত স্বামী তার স্ত্রীকে নিয়ে হাঁটতে বেরিয়ে দ্যাখে যে অনেক দূর হতে একটা ট্রেন আসছে। স্ত্রীকে ক্ষমতা দেখানোর ইচ্ছে জাগে তার। এই ভেবে স্ত্রীকে বলে, জানো আমার এত ক্ষমতা যে আমি চলন্ত ট্রেন থামিয়ে দিতে পারি। স্ত্রী বলে বললেই হল, তবে দেখাও দেখি তোমার কত ক্ষমতা। স্বামী তখন নববিবাহিত স্ত্রীর লাল ওড়নাটি হাতে নিয়ে ট্রেন লাইনের উপরে দাঁড়িয়ে নাড়তে আরম্ভ করলো।

ফলশ্রুতিতে ট্রেন দাঁড়িয়ে গেলো। স্ত্রী তো স্বামীর ক্ষমতা দ্যাখে মহাখুশি। এমন সময় ট্রেন হতে গার্ড নেমে এসে এদিক ওদিক দেখে যা বুঝার বুঝে ফেললেন এবং স্বামী টিকে কষে একটা চড় মারলেন। এরপর ট্রেন চলে গেলো যথারীতি। স্ত্রী তখন তার স্বামীকে জিজ্ঞেস করলো ড্রেস পড়া ঐ লোকটি তোমাকে চড় মারলো কেন? স্বামী তখন উত্তর দেয় বুঝলে না আমি আমার ক্ষমতা দেখিয়েছি আর ঐ লোকটি তার ক্ষমতা দেখালো।

এখন কেন ব্যাংকারগনকে নিরীহ প্রাণী বলতে হবে তার উল্লেখ করে এই লেখার সমাপ্তি টানছি। কারন একের পর এক অনিয়ম এর শিকার হচ্ছে ব্যাংকে কর্মরত কর্মী বাহিনী। তবুও তাদের কোন রা নেই বরং নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন।

ব্যাংক এর উচ্চ পদস্থ নির্বাহীগন যাদের সাথে নিয়ন্ত্রক ও নীতিমালা প্রস্তুতকারী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গণের সাথে মিটিং করার সুযোগ ঘটে। কিন্তু তাঁরা এসব বিষয় তুলে ধরেন বলে কেউ মনে করেন না। কারন তাদের তো অসুবিধা নেই। আর ক্ষমতা সুসংহত করতে গেলে প্রতিবাদ করতে নেই বরং অপছন্দ হলেও সব মেনে নিতে হয়। তাদের নিম্ন পদস্থগন তো অতিরিক্ত দিন কাজের জন্য ভাতা না দিলেও কাজ করে, কিছু বলেনা, প্রতিবাদ করেনা কবিতার সাপের মত।

অর্থাৎ তাঁরা সেই জ্যান্ত সাপ “যার নড়েনা তো চড়েনা কাউকে যে কাটেনা”। সুতরাং গরু নিরীহ প্রাণী এই প্রবচন আর সঠিক নয়। আমাদের বলা উচিত আজকের সমাজের নিরীহ প্রাণী গরু নয় ব্যাংকার।

পরিশেষে বলি আসুন আমরা অর্জিত জ্ঞানের বাস্তবানুগ প্রয়োগে চাই। সে শিক্ষাই চাই যে শিক্ষা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল এর কাজে লাগেবে না বরং অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর কল্যান বয়ে আনাবে। আমাদের প্রত্যাশা প্রকৃত শিক্ষা ও দেশে এর প্রতি ভালবাসাই চূড়ান্ত বিচারে দেশ ও জনগন উপকৃত হবেন এমন কার্যক্রম ও নীতিমালা গ্রহণে আমাদের নীতি নির্ধারকগণকে উদ্বুদ্ধ করবে।

লেখকঃ সাইফুল ইসলাম চৌধুরি, অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি ব্যাংক নির্বাহী

Published by junior

A Driven, focused , and dedicated creative risk taker with the ability to achieve making headway on personally meaningful goals, and completing projects. There are few things that bring me more satisfaction than applying my brain power to crafting things and making progress in any form. I tend to excel in design, crafts, architecture, and other fields that blend artistry with business and technology.

Leave a comment